কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের বিষয়ে সরকার সম্মত না হলে আলোচনায় বসার আর কোনো অর্থ নেই।
শনিবার ২৫ জুলাই সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনো আপস করা হবে না। সরকার এই দাবিতে সম্মত না হলে পরবর্তী আলোচনার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার ওই বৈঠকে আন্দোলনকারীরা তাদের তিনটি প্রধান দাবি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। পরে সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর শনিবার বিকেলে আবার বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়।
সিজেপির প্রধান তিন দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
শুক্রবারের বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের দুটি দাবি নীতিগতভাবে মেনে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি।
বৈঠক শেষে জে পি নাড্ডা জানান, আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি ও পরীক্ষা সংস্কার সংক্রান্ত পাঁচটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর শনিবার বিকেলে আবার বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে সরকারি সূত্রের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। সরকারের অবস্থান হলো, পদত্যাগ করানো সহজ সিদ্ধান্ত হলেও তারা শিক্ষামন্ত্রীর পাশে রয়েছে এবং জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালন করবে।
এদিকে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে গত দুই দিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইনে আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান যুক্ত করতে আইন সংশোধনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
এ ছাড়া শিক্ষা সচিবকে বদলি করা হয়েছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা এনটিএর ৪৭ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকার শিগগিরই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনারও আশ্বাস দিয়েছে।
তবে এনটিএর ৪৭ কর্মকর্তাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তার দাবি, প্রশ্নফাঁস এবং এর কারণে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানই চূড়ান্তভাবে দায়ী। তাই তাকে পদত্যাগ করতেই হবে বলে তিনি আবারও দাবি করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট