আগামী ৩০ জুন, সোমবার (১৫ মহররম ১৪৪৮ হিজরি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আয়োজন—পবিত্র কাবা শরিফ ধৌতকরণ। সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র এই ঘরটি প্রতি বছর নির্দিষ্ট নিয়মে জমজমের পানি, তায়েফের সুগন্ধি গোলাপ জল, খাঁটি উদ তেল এবং বিশুদ্ধ কস্তুরী দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি বাদশাহ ও দুই পবিত্র মসজিদের খাদেমের পক্ষ থেকে মনোনীত বিশেষ প্রতিনিধি অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন। এতে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেবেন। নিরাপত্তা ও পবিত্রতার স্বার্থে সাধারণ মুসল্লিদের প্রবেশ সীমিত রাখা হলেও অনুষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে কাবা শরিফের দরজার কিসওয়ার (গিলাফ) একটি অংশ ওপরে তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিথিদের প্রবেশ ও বের হতে সুবিধা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, ফজরের নামাজের পরপরই ধৌতকরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এবারের ধৌতকরণে দুটি রুপার পাত্রে সংরক্ষিত ৪০ লিটার জমজমের পানি ব্যবহার করা হবে। এর সঙ্গে মেশানো হবে ৫৪০ মিলিলিটার তায়েফের গোলাপ জল, ২৪ মিলিলিটার প্রিমিয়াম মানের গোলাপ তেল, ২৪ মিলিলিটার খাঁটি উদ তেল এবং কাবার দেয়াল ও মেঝে সুবাসিত করতে ৩ মিলিলিটার বিশুদ্ধ কস্তুরী। সৌদি আরবের তায়েফ অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় উৎপাদিত বিশেষ গোলাপ থেকে প্রস্তুত করা এই সুগন্ধি বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রাকৃতিক সুগন্ধি হিসেবে পরিচিত।
সাধারণত বছরে দুইবার কাবা শরিফ ধৌত করা হয়—একবার পবিত্র রমজান মাসের আগে এবং আরেকবার হজ মৌসুম শেষ হওয়ার পর মহররম মাসে। এই আয়োজন শুধু পরিচ্ছন্নতার জন্য নয়; বরং এটি পবিত্র কাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর আধ্যাত্মিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালিত হয়ে আসছে।
প্রতি বছর এই ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। আধুনিক গণমাধ্যম ও প্রযুক্তির মাধ্যমে কাবা ধৌতকরণের ছবি ও ভিডিও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি।
ডেস্ক রিপোর্ট