সংবিধান সংস্কার নয়, বরং রহিত, স্থগিত বা সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়—এমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন এবং এ বিষয়ে একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
আলোচনায় তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিভিন্ন ‘আইনি প্রতারণা’ যুক্ত হয়েছে, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে আদালত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো সংসদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন বা বাতিল করা উচিত বলে মত দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংবিধানের নির্দিষ্ট তফসিলে অন্তর্ভুক্ত কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ঘোষণার ঐতিহাসিক বর্ণনা সংশোধন করে তা সংবিধানে পুনঃস্থাপন করা দরকার। এ প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকার উল্লেখ করেন।
সংবিধানের মূলনীতিতে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহালের পক্ষেও মত দেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি পূর্বে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার উৎস জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় সংসদের মাধ্যমে। এ লক্ষ্যে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও উঠে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পাবে।
বিরোধী দল ও অন্যান্য সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সব দলের অংশগ্রহণে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। এজন্য প্রস্তাবিত বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের একসঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডেস্ক রিপোর্ট