ইরানের জ্বালানি স্থাপনার ওপর মার্কিন হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করার আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আশায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারে স্থির হলেও, ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের এক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রায় এক ডলার কমে যায়। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে। যদিও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (WTI) দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
তেলের দামের এই ওঠানামার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব শেয়ার বাজারেও। বিশেষ করে টোকিও, সিউল, হংকং এবং সিডনিসহ এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। নিউ ইয়র্কের ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকলেও চাহিদার পূর্বাভাসে কিছুটা পরিবর্তনের কারণেই এই সামান্য পতন। তবে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখনও উদ্বিগ্ন যে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পরিস্থিতি নিয়ে ভয়াবহ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা বর্তমানে গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। এই সংকট মোকাবিলায় উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) জানিয়েছে, তেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতির হার ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট