যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তার প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ২৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, চলমান সংঘাত থামাতে হলে এখন ইরানকেই উদ্যোগী হয়ে ওয়াশিংটনকে সন্তুষ্ট করতে হবে। ট্রাম্পের মতে, তেহরান বর্তমানে একটি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে উঠলেও, কেবল মার্কিন স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষিত হলেই সমঝোতা সম্ভব।
বৈঠকে ট্রাম্প শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আলোচনা করার সুযোগ এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তিনি ইরানি নেতাদের ‘দক্ষ আলোচক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও রণক্ষেত্রে তাদের ‘দুর্বল’ বলে কটাক্ষ করেন। ট্রাম্পের সাফ কথা—তেহরান সঠিক শর্তে আলোচনার টেবিলে না আসা পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী বিরতিহীনভাবে হামলা চালিয়ে যাবে।
একই বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, চলমান সামরিক অভিযান ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে বিশাল সাফল্য এনে দিয়েছে। ভ্যান্সের মতে:
- কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বর্তমানে ইরানের পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই বললেই চলে।
- এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় বিজয়।
- সামরিক চাপের মাধ্যমেই ইরানকে একটি স্থায়ী ও কঠোর চুক্তিতে বাধ্য করা সম্ভব হয়েছে।
সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের পক্ষে তাদের জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। তারা মনে করেন, এই মুহূর্তে সামরিক চাপ কমানো হবে আত্মঘাতী। তবে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক বিশ্লেষণে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানে ট্রাম্পের এই দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত শেষ পর্যন্ত মার্কিন ডলারের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বা ‘ডলার ডমিনেন্স’-এর পতনের কারণ হতে পারে।