মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই অনুমোদন পাওয়া গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, শুধু ইরান নয়, মিশর ও তুরস্কসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। এই অনুমতির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সর্বশেষ দেশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পেল।
এর আগে ইরান বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, সম্পূর্ণ বন্ধ না করে নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রণালিটি পরিচালনা করছে তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি; বরং জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনুমতি চেয়েছে, এবং তাদের মধ্যে অনেককেই মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ইতোমধ্যে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের মতো দেশগুলোর জাহাজ এই পথ ব্যবহার করেছে। এমনকি বাংলাদেশের জাহাজও সমন্বয়ের মাধ্যমে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত সাঈদ কোযেচি জানিয়েছেন, আগাম সমন্বয় করলে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজও এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট জাহাজের তথ্য ইরানকে সরবরাহ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। বিশ্বে মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে হওয়ায় এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট