নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের কোনোভাবেই গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, কর্মকর্তারা জনগণকে ভোটাধিকারে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার চালাতে পারলেও আইনগতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। বিশেষ করে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো পক্ষের হয়ে প্রচার চালাচ্ছেন না বলে তিনি দাবি করেন।
গণভোটে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠলে সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি এই নির্বাচন কমিশনার। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন কমিশন সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সন্তোষজনক। জামায়াত ও এনসিপি-র পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কমিশন অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং ইতিমধ্যে সেগুলোর সমাধানে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের আশঙ্কার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। কমিশনের বিশ্বাস, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ ও বিশ্ববাসী একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে। তিনি আরও জানান, প্রচারণায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং বিশৃঙ্খলা রোধে কমিশন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ১২৮টি আসনে মোট ১৪৪টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব অনিয়মের দায়ে অভিযুক্তদের মোট ৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং গুরুত্ব বিবেচনায় ৯৪টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট