ট্রাকভাড়ার অজুহাতে বাড়ল চালের দাম, চড়া সবজিও
এক সপ্তাহে আটাশ, মিনিকেট ও পাইজাম চালের কেজিতে বেড়েছে ১–২ টাকা; টমেটো, শিম ও কাঁচা মরিচও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।
- আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১২:২৯:০০ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৬ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আটাশ, মিনিকেট ও পাইজাম চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। পরিবহন খরচ ও ট্রাকভাড়া বৃদ্ধিকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন ব্যবসায়ীরা। চালের পাশাপাশি কয়েক ধরনের সবজিও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে মোটা চাল, তেল, চিনি ও ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর ৬, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও আগারগাঁও এলাকার বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে আটাশ চাল প্রতি কেজি ৬৩ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এ চালের দাম ছিল ৬২ থেকে ৬৩ টাকা। মিনিকেট চালের কেজি ৭৫ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ টাকা বেশি। পাইজাম চালের দামও কেজিতে ২ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। তবে গুটি স্বর্ণাসহ অন্যান্য মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় চাল পরিবহনে ট্রাকভাড়া বেড়েছে। পাশাপাশি ধানের দাম বৃদ্ধি ও মৌসুমি প্রভাবও চালের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
মালিবাগ বাজারের চাল ব্যবসায়ী চিশতি বলেন, পরিবহন খরচ বাড়ায় কয়েক ধরনের চালের প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে।
মিরপুর ৬ এলাকার চাল ব্যবসায়ী মোশারফ সিকদার বলেন, মিল থেকে আগের তুলনায় বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে ট্রাকভাড়া ও পরিবহন ব্যয় যোগ হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে সব ধরনের চালের দাম বাড়েনি; মোটা চালের দাম আগের মতোই রয়েছে।
পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে খুচরা পর্যায়ে চালের দাম কতটা বেড়েছে, তা নির্দিষ্ট করে নির্ধারণের মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি ধানের দাম ও অন্যান্য কারণও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
চালের দাম বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাওয়ার কথা জানিয়েছেন ক্রেতারা। তাঁদের মতে, আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। চালের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম বাড়লে সংসারের অন্য খরচ কমিয়ে চলতে হচ্ছে।
বাজারে চাল কিনতে আসা নার্গিস বেগম বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় কয়েক ধরনের চালের দাম বেড়েছে। একই পরিমাণ চাল কিনতে এখন আগের চেয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবি জানান তিনি।
চড়া সবজির বাজার
চালের পাশাপাশি কয়েক ধরনের সবজিও বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। বাজারে বেগুনের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা। পটোল ও ঢেঁড়শের কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে পেঁপের দাম কমে প্রতি কেজি ২০ টাকায় নেমেছে।
মিরপুর ৬ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, দু-একটি পণ্য ছাড়া বেশির ভাগ সবজির দাম তেমন বাড়েনি। কিছু পণ্যের দাম আগের মতো রয়েছে। শীতের নতুন সবজি বাজারে এলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
মাংস ও মাছের দাম
বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকা।
মাছের বাজারে রুই মাছ প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, কই মাছ ২৪০ টাকা, পাঙ্গাস ২৩০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে তেল, চিনি ও ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। চাল ও কয়েক ধরনের সবজির দাম বাড়লেও এসব পণ্যের দাম আগের পর্যায়েই রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।