ফ্যামিলি কার্ড পাবেন কারা, বাদ পড়বেন যেসব ৮ শ্রেণির মানুষ
১২ অক্টোবর থেকে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু, অগ্রাধিকার পাবে হতদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০১:৩৯:৫০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০১:৩৯:৫০ অপরাহ্ন
- ৪ মিনিট পড়ার সময়
- ১০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হচ্ছে সোমবার (১২ অক্টোবর)। এ কর্মসূচিতে হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট আয়, সম্পদ, চাকরি ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে আট শ্রেণির ব্যক্তি বা পরিবার এ সুবিধা পাবে না।
গত ৮ অক্টোবর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে জানানো হয়, ১২ অক্টোবর থেকে দেশের সব এলাকায় থানা ও পরিবারের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রশিক্ষিত ও পরিচয়পত্রধারী সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সহায়তার প্রয়োজন বিবেচনা করে পরিবার নির্বাচন করা হবে।
কর্মসূচির প্রচারণায় মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তা বিশ্বাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না। কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর কথা বলা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রামীণ হতদরিদ্র, নিম্নআয়ের, উপার্জনে অক্ষম সদস্যবিশিষ্ট, নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার অগ্রাধিকার পাবে। বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা, স্বামী পরিত্যক্তা ও অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবার, ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী অবিবাহিত মেয়ের পরিবার, প্রত্যাগত অভিবাসী—বিশেষত নারী অভিবাসীর পরিবার এবং শিশু, প্রতিবন্ধী বা অটিজম আক্রান্ত সদস্য থাকা পরিবারও অগ্রাধিকার পাবে।
মাটির, পাটকাঠি বা বাঁশের দেয়ালযুক্ত ঘরে বসবাসকারী পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুর পরিবারও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। ভূমিহীন বলতে বসতভিটা ও কৃষিজমিহীন কৃষিনির্ভর পরিবারকে বোঝানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা থাকলেও কৃষিযোগ্য জমি না থাকলে সেই পরিবারও এ শ্রেণিতে পড়বে। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সুপারিশ আসতে হবে।
নীতিমালায় আট ধরনের অযোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে। প্রথমত, সরকার নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের ঊর্ধ্বসীমার বেশি স্কোর পাওয়া পরিবার সুবিধা পাবে না। দ্বিতীয়ত, পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলে সুবিধার বাইরে থাকবেন। তৃতীয়ত, নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অনুরূপ অবসর সুবিধা গ্রহণকারী নারীপ্রধান পরিবারও বাদ পড়বে। তবে প্রতিবন্ধী সন্তান হিসেবে বিশেষ পেনশন সুবিধা গ্রহণকারীরা এ শর্তের বাইরে থাকবেন।
চতুর্থত, পরিবারের কোনো সদস্যের নামে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ অথবা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়, স্থায়ী আমানত বা অন্য বিনিয়োগ থাকলে পরিবারটি সুবিধা পাবে না। পঞ্চমত, কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে না। এর মধ্যে সিএনজি বা পেট্রলচালিত ফোর-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার, কার, জিপ, পিকআপ, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও মাইক্রোবাস রয়েছে।
ষষ্ঠত, পরিবারের কোনো সদস্যের বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হালনাগাদ লাইসেন্সধারী ব্যবসা থাকলে সুবিধা মিলবে না। সপ্তমত, কোনো সদস্য নিয়মিত করদাতা এবং তাঁর করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি অযোগ্য হবে। অষ্টমত, বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্থানের বাজারমূল্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।
একই পরিবারের একাধিক সদস্য তালিকাভুক্ত হতে পারবেন না। নির্দিষ্ট সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় থাকা যেসব পরিবার সমন্বয়ের বাইরে থাকবে, তারাও ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে তথ্য যাচাইয়ের সময় দ্বৈততা পাওয়া গেলে সরকারি তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদেরও বাদ দেওয়া হতে পারে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অর্থবিভাগের সামাজিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিবন্ধনে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর ও ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করা যাবে। সিঙ্গেল রেজিস্ট্রি সিস্টেমে থাকা চার কোটির বেশি উপকারভোগীর তথ্য দিয়ে এনআইডি, মোবাইল নম্বর ও ব্যাংক হিসাবের ভিত্তিতে দ্বৈততা যাচাই করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন, টিআইএন, বিটিআরসির আইএমইআই ডাটাবেজ, জাতীয় সঞ্চয়পত্র, সরকারি কর্মচারী ও পেনশনার এবং এমপিও শিক্ষক ডাটাবেজের তথ্যও মিলিয়ে দেখা যাবে। বিকাশ, রকেট, নগদসহ পাঁচটি মোবাইল আর্থিক সেবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে অর্থ পাঠানো ও তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।