কলকাতায় হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু: মালিক বীরেশ্বর গ্রেপ্তার
বাংলাদেশি সাংবাদিকসহ ৭ জনের প্রাণহানি; ফায়ার সেফটি না থাকায় নিউমার্কেটের ৫০ হোটেলে শোকজ নোটিশ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০১:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৮-২০২৬ ০১:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৮১ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা-ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) কলকাতার বেহালায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
কলকাতা পুলিশ জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর বীরেশ্বর মিত্র ঝাড়খণ্ডের ধানবাদে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পরে কলকাতায় ফিরে বেহালার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, ধানবাদে পালিয়ে যাওয়ার পর কলকাতায় বীরেশ্বর মিত্রের দুটি ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে এবং নগদ অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। এরপর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে, এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) গভীর রাতে ‘শিখা ইন’ হোটেলটির লিজ-হোল্ডার আবু জাফরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় তদন্তকারী দল। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এন্টালি থানা এলাকার মেন মার্কেট থেকে আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি জোড়াসাঁকো এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির পরিচালন ব্যবস্থা, লিজসংক্রান্ত নথি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই আবু জাফরের ভূমিকা সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তদন্তের স্বার্থে আরও দুজন হোটেলকর্মীকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে একজন উল্টো দিকের ‘যাপন’ হোটেলের ম্যানেজার এবং অন্যজন ওই হোটেলেরই কর্মী। পুলিশ সূত্রে খবর, ‘যাপন’ হোটেলটিরও লিজ-হোল্ডার আবু জাফর।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেল শিখা-ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জন পর্যটক ও কর্মী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে কুষ্টিয়ার এক সাংবাদিক ও তার পরিবারের তিন সদস্যও রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেল শিখা-ইনের ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছিল না। এ ঘটনায় কলকাতার নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন হোটেলে ফায়ার এক্সটিংগুইশার স্থাপন এবং জরুরি বহির্গমন পথ ঠিক করার কাজ চলছে।
এ দিকে কলকাতা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও কলকাতা পৌর করপোরেশনের কর্মকর্তারা নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ৫০টি হোটেল ও গেস্টহাউস পরিদর্শন করেছেন। অগ্নিনিরাপত্তা ও হোটেলবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপযুক্ত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না দিলে সংশ্লিষ্ট হোটেল ও গেস্টহাউসের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরিদর্শন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিউমার্কেট এলাকার ১৭টি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৩টি, মারকুইস স্ট্রিটের ১৫টি, এস এন ব্যানার্জি রোডের একটি এবং তপশিয়ার একটি হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হোটেল ও গেস্টহাউস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ার নোটিশও দেয়া হয়েছে।
কলকাতার ব্যস্ত নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকায় একের পর এক হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার এই উদ্যোগকে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের পর বড় ধরনের নিরাপত্তা তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।