শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাঘেরজাদেহ বলেন, তিন পাইলটকে উপকূলের বাইরে পানির ওপর থাকা একটি স্থানে অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বাঘেরজাদেহ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধান কমিটির প্রধান। তিনি আটক পাইলটদের দ্রুত স্থলভাগের হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অসুস্থ ও আহতদের দ্রুত ইরানে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির কাছে কাতারে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে ইরানি পাইলটদের আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানিয়েছেন, ইরানি বিমান কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার পর এবং যোগাযোগের একাধিক চেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় কাতারি বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
কাতারের দাবি, নিখোঁজ তিন বিমানচালকের সন্ধানে তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। এরই মধ্যে একজন পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করে ইরানের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে ইরানি একটি দলকে কাতারে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এর আগে ১৬ আগস্ট বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেছিলেন, পাইলটদের কী হয়েছিল তা তদন্ত করতে ইরানের একটি তথ্য অনুসন্ধানী দল কাতারে পাঠানোর বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ দেরি করছে। কাতার অবশ্য সেই অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছে।
সর্বশেষ বক্তব্যে বাঘেরজাদেহ কাতারের পক্ষ থেকে ইরানি বিশেষজ্ঞদের গ্রহণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দলকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার জন্য দোহার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাইলটদের আটকের অভিযোগ একদিকে কাতার অস্বীকার করলেও অন্যদিকে তাদের অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইরানের বক্তব্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে তিন পাইলটকে ঘিরে দুই দেশের বক্তব্যে এখনো পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে।