রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এসব হামলার জবাবে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
শুক্রবার ২১ আগস্ট ক্রিভি রিহ শহরের সানি গ্যালারি শপিং কমপ্লেক্সে দুই দফা ড্রোন হামলার পরও দুই দেশের মধ্যে সংঘাত থামেনি। শনিবারও ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী কিয়েভ, খেরসন, দোনেৎস্ক ও সুমি অঞ্চলে হতাহত হওয়ার পাশাপাশি খেরসনের একটি শপিং সেন্টারে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।
এক বক্তব্যে পুতিন বলেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও শিল্প স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলেছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেন রাশিয়ার অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে এবং এর জবাবে মস্কোও তাদের বেসামরিক শিল্প ও লজিস্টিক অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করছে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কিয়েভসহ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার মাত্রা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, রাশিয়া আলোচনায় আগ্রহী হলেও তা অবশ্যই বর্তমান পরিস্থিতি ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার ভিত্তিতে হতে হবে।
এদিকে রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একই পরিবারের কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বেলগোরোদ অঞ্চলেও ইউক্রেনের হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাতভর শত শত ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডেফুল কিয়েভ সফরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ক্রিভি রিহ হামলায় নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে জার্মানির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, ইউরোপের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।