ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীতে অঞ্চলটিতে রাজনৈতিক বিভাজন আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি ৫ আগস্টকে কাশ্মীরের মূলধারায় একীভূত হওয়ার দিন হিসেবে উল্লেখ করলেও ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করছে।
২০১৯ সালের ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা প্রত্যাহার করে অঞ্চলটিকে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রীনগরে পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে মোমবাতি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। দলটির অভিযোগ, কর্মসূচি চলাকালে মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতিকে আটক করা হয়েছে।
মেহবুবা মুফতি বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এটি একটি কালো অধ্যায়। তার দাবি, কাশ্মীর সমস্যার সমাধান এবং ৩৭০ ধারা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পিডিপি জানিয়েছে, এ দাবিতে জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় আরও কর্মসূচি পালন করা হবে।
অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সও শ্রীনগরসহ বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা রতন লাল গুপ্ত বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল এবং এখনো রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল না হওয়ায় তারা ৫ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে পালন করছেন।
দলের সংসদ সদস্য চৌধুরী রমজান দিল্লিতে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সদস্যদেরও প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও ইন্ডিয়া জোটের কয়েকটি দল এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়নি, তবে কংগ্রেসসহ বেশ কয়েকটি দল জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে।
সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহও দিল্লিতে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন। দলটির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন করেনি।
২০২৩ সালে ভারত সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা সাময়িক এবং বিধানসভা নির্বাচন শেষে রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল করা হবে। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
সরকার গঠনের পর ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এবং পরে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে পৃথক প্রস্তাব গ্রহণ করে।
এদিকে বিজেপি দাবি করে, ৩৭০ ধারা বাতিলের পর কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ কমেছে এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। তবে ন্যাশনাল কনফারেন্সের দাবি, সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনা কেন্দ্রের এই বক্তব্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি দাবির সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট