হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের যেকোনো একতরফা পদক্ষেপে আস্থা রাখা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আগ্রাসন’-এর অভিযোগ তুলে বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগই নির্ভরযোগ্য পথ।
শুক্রবার (১ মে) দেওয়া ওই বক্তব্যে আনোয়ার গারগাশ জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের পূর্ববর্তী আচরণের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় তাদের একক উদ্যোগকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করা যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক আইনই প্রধান ভরসা হওয়া উচিত।
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো শর্ত ছাড়াই দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেখ খলিফা শাহিন আল মারার বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবৈধ হস্তক্ষেপের ঘটনায় ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই পথ আংশিকভাবে অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়েছে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট