ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের তীব্রতার মধ্যেই রাশিয়া সাইবেরিয়ায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মহড়া চালিয়েছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করায় সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক হামলায় ইউক্রেনজুড়ে আকাশপথে একাধিক আঘাত হানে রুশ বাহিনী। Odesa ও Kharkiv অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খারকিভে একটি বহুতল ভবনে সরাসরি আঘাতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন আহত হন। অন্যদিকে ওডেসা বন্দরে হামলার ফলে কন্টেইনারে আগুন লেগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া Kherson অঞ্চলে হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
পাল্টা হিসেবে ইউক্রেনীয় বাহিনীও রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। দেশটির Bashkortostan অঞ্চলের Ufa শহরের একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। রুশ কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও ধ্বংসাবশেষ পড়ে শিল্প এলাকায় আগুন লাগে এবং একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী সাইবেরিয়ায় আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) নিয়ে বড় পরিসরের মহড়া চালায়। এতে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র গোপনে স্থানান্তর ও মোতায়েনের কৌশল অনুশীলন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি পশ্চিমা দেশ ও NATO-কে সতর্কবার্তা দেওয়ার অংশ হতে পারে।
সংঘাতের প্রভাব ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাতেও পড়ছে। ইউক্রেনে হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ Druzhba Pipeline ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্লোভাকিয়া ও হাঙ্গেরিতে তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ফলে মধ্য ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট