মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘কঠোর হামলা’র হুমকির জবাবে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকির পর সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু পুনর্মূল্যায়ন করছে তেহরান এবং প্রয়োজন হলে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার (৬ মার্চ) তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের চুক্তি হবে না।
এর জবাবে শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগ্রাসনের মুখে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। পরে ট্রাম্প আবারও ট্রুথ সোশ্যালে লিখে সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “কঠোর আঘাত” হানতে প্রস্তুত এবং নতুন লক্ষ্যবস্তু বিবেচনা করা হচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ইরানের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিস্তৃত করার এবং তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ইরান মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট অঞ্চল, সামরিক বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করছে।
তিনি আরও জানান, যেসব মার্কিন লক্ষ্যবস্তু এখনো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজন হলে সেগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে সংঘাত অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা আক্রমণের ফলে হতাহতের সংখ্যা ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট