বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে দেশের কৃষকদের সব ধরনের ঋণ ও সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে সহজ শর্তে সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শনিবার দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল দেশের অন্যতম কৃষিপ্রধান এলাকা হলেও দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য ও প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তারেক রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের উৎপাদন খরচ কমাতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, লিচু, ধান ও কাঁটারি চালসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পণ্য বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান এবং আর্থিকভাবে লাভবান হন।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের জন্য নিয়মিত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। তার মতে, নারীরা স্বাবলম্বী হলে পরিবার ও সমাজ আরও শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলেন তারেক রহমান। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ বাড়ানো এবং ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রত্যেক শিক্ষককে কম্পিউটার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চায়। যোগ্যতার ভিত্তিতেই নাগরিক পরিচয় নির্ধারিত হবে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়—এমন অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে উপস্থিত জনতার প্রতি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোট ও সমর্থনের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক ও উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট