সরকারি অফিসে ব্যবসায়িক হয়রানি কমছে: বিডা চেয়ারম্যানের আশ্বাস, আসছে নিবন্ধন ‘অ্যাপ’
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ০৮:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৯-১২-২০২৫ ০৮:৩২:৪৬ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫০ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনে সরকারি কার্যালয়গুলোতে উদ্যোক্তারা যে হয়রানির শিকার হন, আগামী বছর থেকে একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) চালুর মাধ্যমে সেই ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ‘জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। অ্যাপটির মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও অনলাইন-ভিত্তিক করা হবে, যা দেশে ব্যবসা শুরুর জটিলতা নিরসনে সহায়ক হবে বলে আশিক চৌধুরী মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে বক্তারা এসএমই খাতের উচ্চ সুদের হার (১৫%), এনজিও থেকে ঋণ নিলে আরও বেশি (২৫%), এবং নির্বাচনের কারণে অর্থনীতিতে সৃষ্ট স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই স্বীকার করেছেন যে, দেশে ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে জটিল এবং নিবন্ধন কার্যক্রম কঠিন। তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরগুলোতে সরাসরি সেবা নিতে গেলে ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই আগামী বছর থেকে ‘অ্যাপ’ ভিত্তিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা সহজেই তাদের ব্যবসা নিবন্ধন করতে পারবেন এবং সরকারি অফিসে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন কমবে।
সাত দিনব্যাপী এই ‘জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা’য় প্রায় ৪০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে শিল্প উপদেষ্টা, বিসিকসহ অন্যান্য বক্তারা কৃষি জমি রক্ষায় শিল্প পার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
তবে, মেলা চলাকালীন বিভিন্ন আলোচনায় এসএমই খাতের চ্যালেঞ্জগুলো উঠে আসে। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, এসএমই খাতে ঋণের সুদের হার বর্তমানে প্রায় ১৫%, যার মূল কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এনজিওগুলোর মাধ্যমে ঋণ নিলে সুদের হার ২৫% পর্যন্ত পৌঁছায়, যা পরিচালন ব্যয়কে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এসএমই ক্রেডিট কার্ড চালু হলেও এর পরিচালনাগত জটিলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। এছাড়া, বক্তারা জানান, ঋণ বিতরণে কমে আসার প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং নির্বাচনের কারণে সামগ্রিকভাবে সব খাতেই এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। যদিও ব্যাংক খাতে বর্তমানে অতিরিক্ত তারল্য হিসেবে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা জমা আছে, চাহিদা বাড়লে অর্থনীতির চাকা আবার সচল হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এসএমই খাতের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপিত হয়—তা হলো রপ্তানির জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রক্রিয়া সহজ করা। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি জটিল হওয়ায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এটি সহনীয় করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।