জাতির ইন্টেলেকচুয়াল অবক্ষয় সম্পর্কে সতর্ক করলেন ড. মাহমুদুর রহমান
- আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৫ ০২:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৫ ০২:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৫ বার পঠিত
রাজধানীর মহাখালী রাওয়া ভবনে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘রাওয়া বইমেলা ২০২৫’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার দেশকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে দরিদ্র করার পরিকল্পিত উদ্যোগ নিয়েছিল। শনিবার রাতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটি জাতিকে দুর্বল করার সর্বোত্তম উপায় হলো তার চিন্তা, শিক্ষা ও মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করা—এটাই ছিল পূর্ববর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষাপদ্ধতি নষ্ট করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনচেতা চিন্তা ও দেশপ্রেম গড়ে না ওঠে। “শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হতো কাউকে ফেল করানো যাবে না—ফলে পরীক্ষার মানহানি ঘটেছে এবং জাতি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে নিঃস্ব হয়েছে,” যোগ করেন তিনি। মাহমুদুর রহমান জানান, এই প্রক্রিয়ায় শুধু শিক্ষাব্যবস্থা নয়, সেনাবাহিনীর মানসিক শক্তিও দুর্বল করতে চেষ্টা করা হয়েছিল, কারণ দৃঢ় আদর্শ ও ঈমান ব্যতীত কোনো বাহিনী শক্তিশালী হতে পারে না।
তরুণদের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শাসন উৎখাত সম্ভব হয়েছে তরুণ প্রজন্মের ত্যাগের কারণে। “আমাদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে শত শত তরুণ প্রাণ দিয়েছে,” বলেন তিনি। ভবিষ্যতে জাতিকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রস্তুত করার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, “সাহস আসে জ্ঞান থেকে। তাই আমাদের ইন্টেলেকচুয়ালি ইকুইপড হতে হবে, আর বই পড়াই তার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশে সাংবাদিকদের সফরে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের আচরণে তিনি হতাশ হয়েছেন। “ভারতের পররাষ্ট্র সচিব যখন বলেন বাংলাদেশের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দরকার, তখন কেউ প্রতিবাদ করেননি—এটাই প্রমাণ করে আমরা মানসিকভাবে কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছি,” মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতির ভবিষ্যৎ গঠনে জনগণ ও সেনাবাহিনীর ঐক্যের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, “জনগণ ও সেনাবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকবে।” গণমাধ্যম এই সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আবদুল হক মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।