প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা, এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) দেশটির সমরমন্ত্রী পিট হেগসেথ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নৌযানটি মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় রুট ব্যবহার করে নিয়মিত মাদক পাচার করত। তিনি আরও জানান, অভিযানে কোনো মার্কিন সেনা আহত হয়নি।
গত সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও আশপাশের এলাকায় মোট আটটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই নৌযানগুলো ভেনেজুয়েলা থেকে পরিচালিত এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি “মাদক-সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের” অংশ।
নতুন হামলার বিষয়ে এক্স প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা এক ভিডিওতে হেগসেথ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে যুদ্ধ মন্ত্রণালয় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন পরিচালিত জাহাজে নির্দিষ্ট টার্গেটেড হামলা চালিয়েছে।” তার দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল মাদক পাচার রোধ করা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থার নিযুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের একটি দল এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলীয় নৌযানগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” এবং “আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির বিপজ্জনক উসকানি।”
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা উদ্বেগের যৌক্তিকতা স্বীকার করলেও, এসব হামলার আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং একে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।
ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল এই বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, জাতিসংঘের পর্যবেক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কারাকাসের অবস্থানকে সমর্থন করে। তিনি অভিযোগ করেন, “আত্মরক্ষার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের “তথাকথিত বিশেষজ্ঞ” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তারা একজন “অবৈধ নেতা” ও “অপরাধীর” পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন, যিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে, যা ক্যারিবীয় অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট