কক্সবাজারের রিসোর্টে আগুনে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত
উখিয়ার ইনানীতে অগ্নিকাণ্ডে শিশু, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ ১০ জনের মৃত্যু; রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার, তদন্ত কমিটি গঠন
- আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৩:২৬:১৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ০৩:২৬:১৪ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু, শিক্ষক ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন নিকটাত্মীয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ছয়জন আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় রিসোর্টের রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের পাশে উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় অগ্নিনির্বাপণের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও পরিচালনা করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিরা হলেন ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিস্তা মীম (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ, সাভারের স্বপ্ন বিলাস স্কুলের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাফিস তেহামী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জন হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন সাদী (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তাঁদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা হতাহতদের বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রিসোর্টের রান্নাঘরের দিক থেকে বিকট শব্দ শোনার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত আগুন পুরো স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন থেকে বাঁচতে কয়েকজন পর্যটক লাফ দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। রিসোর্টের ইনচার্জ মো. সুমন ইসলামও জানান, আগুন লাগার পর তা নেভানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসি ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিতে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চলে যাওয়ার পর বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়জন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। আগুন লাগার সময় ভেতরে থাকা কয়েকজন পর্যটক ঘুমিয়ে থাকায় কক্ষে আটকা পড়েন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে।
জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহাব উদ্দিনের দাবি, চট্টগ্রামের আমিরাবাদের নিয়াজ ও বোয়ালখালীর তানভীর যৌথভাবে ২০ শতক জমি কিনে রিসোর্টটি গড়ে তোলেন। রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হলেও আবাসিক সুবিধা চালুর জন্য আলাদা অনুমোদন বা লাইসেন্স নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান। জেলা প্রশাসকও বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। তবে জমির মালিকানা ও অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলার অভিযোগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুই দফা অপসারণের নোটিশ দিয়েছিল বলেও জানা গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়।
অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এক বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে রিসোর্টের মালিক নিয়াজ মোরশেদ ও তানভীরের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।