রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর স্থগিত করলেন ট্রাম্প
কার্যকরের এক দিন আগে নির্বাহী আদেশ, সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য
- আপলোড সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১০:৪৩:০১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-১০-২০২৬ ১০:৪৩:০১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬ বার পঠিত
ছবি—সংগৃহীত।
রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই তা স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং রুশ তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রেখে একটি আইনে সই করেছিলেন তিনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ প্রকাশ করে। আদেশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই গত মাসে আইনটি পাস করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার বিষয়ে তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে নতুন নেতা নির্বাচনের সময় এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে। কয়েক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়ছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা।
আইনটির অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন দক্ষিণ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারত।
আইনটি কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনত, তাদের পণ্যের ওপরও এ শুল্ক আরোপের সুযোগ ছিল। এ ছাড়া রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচ দেশের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া যেত।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, তিনি অথবা তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ডন বেয়ার। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করছেন।
এক বিবৃতিতে বেয়ার বলেন, পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের অংশীদারদের সঙ্গে আবারও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। রাশিয়ার আগ্রাসনের শাস্তি দিতে কংগ্রেস যে আইন প্রণয়ন করেছিল, সেই আইনের বিষয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট অবস্থানও ট্রাম্প উপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে একটি চুক্তির কারণেও মার্কিন সিনেটরদের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। সমালোচকদের মধ্যে তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্যরাও ছিলেন। ওই চুক্তিতে রাশিয়ার রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে রাজি হয়েছিলেন ট্রাম্প। বিনিময়ে বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহে সম্মত হয়েছিল রাশিয়া। এর লক্ষ্য ছিল জ্বালানির দাম কমানো। তবে এ চুক্তি নিয়ে সমালোচক আইনপ্রণেতারা আপত্তি জানিয়েছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।