ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩৬টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালায়। উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ শহরের একটি সুপারমার্কেটে ড্রোন হামলায় ৯ বছর বয়সী এক শিশুসহ দুইজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে সাধারণ মানুষের ওপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এ ছাড়া পূর্বাঞ্চলের খারকিভে ড্রোন হামলায় একজন এবং দক্ষিণাঞ্চলের জাপোরিজিয়ায় বোমা হামলায় আরও একজন নিহত হন। রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে এবং এতে তিনজন আহত হন। দোনেৎস্কের স্লোভিয়ানস্কে নাফতোগেজ প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীও হামলায় নিহত হন।
অন্যদিকে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন হরলিভকা শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার দাবি করেছে মস্কো। এছাড়া সীমান্তবর্তী বেলগোরোড শহরে পৃথক ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউক্রেনে ১ হাজার ৩৯৬ জন এবং রাশিয়ায় ২৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। উভয় পক্ষই বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করলেও স্বল্পপাল্লার ড্রোন ও গাইডেড বোমার ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় প্রাণহানির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
এদিকে মার্কিন মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়া তাদের দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ধরে রাখার পাশাপাশি আরও এলাকা সামরিকভাবে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট