কাপ্তাই হ্রদকেন্দ্রিক মৎস্য আহরণ ও ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি শাখায় রাজস্ব আদায়ে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল ওজন ব্যবস্থা চালু এবং অবতরণ কেন্দ্রে নজরদারি জোরদার করায় এ সাফল্য এসেছে।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাঙ্গামাটি শাখার রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২.৫৫ কোটি টাকায়, যা কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির পর সর্বোচ্চ। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ১৫.৫৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব ছিল ১১.২৬ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে তা সামান্য কমে ১১.০১ কোটিতে নেমে আসে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির উৎস কাপ্তাই হ্রদ থেকে বছরে প্রায় ৯ মাস মাছ আহরণ করা হয়। এখানে চাপিলা, কাচকি ছাড়াও রুই, কাতলা, কালিবাউস, আইড়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছ বিএফডিসির নির্ধারিত অবতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে রাজস্ব প্রদান করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মাছ ধরার ব্যবস্থা চালু করা, অবতরণ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ওজন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার—এসব উদ্যোগ রাজস্ব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে শুধু সরকারি আয়ই বাড়েনি, উপকৃত হয়েছেন স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীরাও।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদের পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে প্রতি কেজি মাছের ওপর রাজস্ব বৃদ্ধি পাওয়াও মোট আয়ের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। তবে কিছু ব্যবসায়ী মনে করেন, রাজস্ব হার কিছুটা কমিয়ে কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে অবৈধ পথে মাছ পরিবহন কমে গিয়ে আয় আরও বাড়তে পারে।
বিএফডিসি রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, পরিকল্পিত মৎস্য আহরণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং ব্যবস্থাপনার উন্নয়নই এই অর্জনের প্রধান কারণ। ভবিষ্যতে অটোমেশন আরও বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধি ও উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৭২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি হয়। এই হ্রদকে কেন্দ্র করে বর্তমানে প্রায় ২৬ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডেস্ক রিপোর্ট