জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে আগেই জানা ছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার দিকে এগিয়ে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon শুক্রবার (১ মে) ঘোষণা দেয়, আগামী এক বছরের মধ্যে জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে।
এক বিবৃতিতে পিস্টোরিয়াস উল্লেখ করেন, ইউরোপে—বিশেষ করে জার্মানিতে—মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি উভয় পক্ষের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করে আসছে। তবুও তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন এবং এ ক্ষেত্রে জার্মানি ইতোমধ্যে সঠিক পথে অগ্রসর হচ্ছে।
এ প্রেক্ষাপটে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ সম্প্রতি ইরান ইস্যুতে মন্তব্য করে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমানিত’ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তার এ মন্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেন বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রসঙ্গে জার্মান নেতৃত্বের অবস্থান সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন, তবে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানিতে সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। উল্লেখ্য, তার আগের মেয়াদ থেকেই ইউরোপকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ও সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত ও বক্তব্যগুলো ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সম্পর্কের নতুন দিক নির্দেশ করছে, যেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোর আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট