দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বড় ধরনের স্থল যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে অনেক বেশি সতর্ক হতে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে বড় কারণ যুদ্ধের মানবিক ও রাজনৈতিক মূল্য। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ–এ যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি বহু রণক্ষেত্রে লড়াই করলেও পরবর্তী সময়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ এবং আফগানিস্তান যুদ্ধ–এর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে দীর্ঘস্থায়ী স্থল যুদ্ধে বিপুল সেনা হতাহত হয় এবং দেশে জনমত দ্রুত বদলে যায়।
এই বাস্তবতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ কৌশলের দিকে ঝুঁকছে। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে ড্রোন, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। উদাহরণ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত সামরিক ড্রোন MQ‑9 Reaper এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র Tomahawk cruise missile–এর কথা উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক ডেভিড পেট্রিয়াস মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি যুদ্ধের ধরন বদলে দিলেও শুধু দূর থেকে হামলা চালিয়ে সব সময় রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জন মিয়ারশেইমার বলেন, আধুনিক যুদ্ধের খরচ ও রাজনৈতিক ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাওয়ায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো এখন এমন কৌশল বেছে নেয়, যেখানে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি কম রেখে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠলেও স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে অনেক ক্ষেত্রে এখনো স্থল বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে।
সরাসরি স্থল যুদ্ধে অনীহা কেন? বদলে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল
- আপলোড সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৬:৩৮:২৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৩-২০২৬ ০৬:৩৮:২৬ পূর্বাহ্ন
ছবি সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট