যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে কোরীয় উপদ্বীপে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং সতর্ক করে বলেছেন, তাদের রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের কাছে শত্রুপক্ষের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ‘অকল্পনীয়ভাবে ভয়াবহ পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে। দেশ দুটির চলমান বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, তাদের রাষ্ট্রের ধৈর্য, ইচ্ছাশক্তি ও সামরিক সক্ষমতাকে পরীক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ তাদের দেশের নিরাপত্তা কতটা লঙ্ঘন করছে এবং এর পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে—পিয়ংইয়ং তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ শুরুর পরপরই। সোমবার (৯ মার্চ) শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এই মহড়ায় দুই দেশের প্রায় ১৮ হাজার সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোরিয়াভিত্তিক সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার লক্ষ্য হলো যৌথ অপারেশনাল পরিবেশ উন্নত করা এবং দুই দেশের জোটগত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় মোট ২২টি ফিল্ড ট্রেনিং ড্রিল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে পিয়ংইয়ং এই মহড়াকে অপ্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছে। কিম ইয়ো জং বলেন, অতীতে ওয়াশিংটন ও সিউল মহড়াটিকে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও উত্তর কোরিয়া সেই দাবি গ্রহণ করে না।
কোরীয় উপদ্বীপে দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ঘোষণা দেন যে, তিনি আর দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে পুনর্মিলনের প্রচেষ্টা চালাবেন না। অন্যদিকে সিউল সরকার দীর্ঘমেয়াদে দুই কোরিয়ার সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্য বজায় রেখেছে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ইয়োনহাপকে জানান, কিম ইয়ো জংয়ের সর্বশেষ বক্তব্য উত্তর কোরিয়ার আগের অনেক বিবৃতির তুলনায় অপেক্ষাকৃত সংযত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিবৃতিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো হুমকিও দেওয়া হয়নি।
ডেস্ক রিপোর্ট