ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তেহরানে চালানো সাম্প্রতিক হামলায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করা হয়েছে। হামলাটি রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায়, বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর এলাকায় পরিচালিত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৭ মার্চ) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, রাতভর হামলা চালানো হয় তেহরানের বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে মেহরাবাদ বিমানবন্দর এলাকাও ছিল লক্ষ্যবস্তু। হামলায় আইআরজিসির কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, এই বিমানবন্দরটি লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংগঠনের কাছে অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তবে এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে যে ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানে আরও ‘কঠোর আঘাত’ হানার প্রস্তুতি রয়েছে। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধ করতে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান।
জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগ্রাসনের মুখে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবেশী অঞ্চল থেকে হামলা না হলে সেখানে আর পাল্টা আক্রমণ চালাবে না তেহরান।
চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, এখনো যেসব এলাকা বা গোষ্ঠীকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়নি, সেগুলোকেও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পরে ডোভার এয়ার ফোর্স বেস-এ গিয়ে সংঘাতে নিহত ছয় মার্কিন সেনাসদস্যের মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট