মার্কিন কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশিত বিপুল পরিমাণ নথির মধ্যে এবার উঠে এসেছে পবিত্র কাবার গিলাফ বা কিসওয়ার প্রসঙ্গ। এসব নথিতে দেখা যায়, সাত বছর আগে মৃত্যুবরণ করা এপস্টেইনের কাছে কাবার গায়ে ব্যবহৃত কাপড়ের একাধিক অংশ পাঠানো হয়েছিল, যা নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
প্রকাশিত ইমেইল ও যোগাযোগের নথি অনুযায়ী, ২০১৭ সালে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কাবার কিসওয়ার তিনটি টুকরো পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক এক নারী ব্যবসায়ী আজিজা আল-আহমাদি এবং আবদুল্লাহ আল-মারি নামে আরেক ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।
কিসওয়া হলো সেই কালো রঙের স্বর্ণখচিত কাপড়, যা ইসলামের পবিত্রতম স্থান মক্কার কাবা শরিফকে আবৃত করে রাখে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে পুরোনো কিসওয়া সরিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয় এবং পুরোনো অংশগুলোকে ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নথিতে থাকা ইমেইলগুলোতে দেখা যায়, কিসওয়ার টুকরোগুলো ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কার্গো বিমানের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় ইনভয়েস, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং অভ্যন্তরীণ ডেলিভারির বিষয়গুলো সমন্বয় করা হয়েছিল। চালানে তিন ধরনের টুকরো ছিল—একটি কাবার ভেতরের অংশের, একটি ব্যবহৃত বাইরের অংশের এবং আরেকটি একই উপাদানে তৈরি হলেও অব্যবহৃত। শুল্ক জটিলতা এড়াতে অব্যবহৃত অংশটিকে ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
২০১৭ সালের মার্চ মাসে এসব কাপড় এপস্টেইনের বাসভবনে পৌঁছায়। ওই সময় তিনি একজন নিবন্ধিত যৌন অপরাধী হিসেবে সাজা ভোগ শেষে মুক্ত ছিলেন। একটি ইমেইলে আজিজা আল-আহমাদি কিসওয়ার ধর্মীয় গুরুত্ব তুলে ধরে এপস্টেইনকে জানান, এই কাপড় বহু মুসল্লির স্পর্শে পবিত্র হয়ে উঠেছে এবং এতে তাদের প্রার্থনা ও অনুভূতির প্রতিফলন রয়েছে।
তবে প্রকাশিত নথি থেকে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কাবার গিলাফের এসব অংশ এপস্টেইন কী উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করেছিলেন বা পরে সেগুলোর কী ব্যবহার হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধর্মীয় ও নৈতিক প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট