ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে স্থায়ী সমাধান খুঁজতে পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থান ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এই বৈঠক সফল হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি Steve Witkoff এবং Jared Kushner-এরও সেখানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত হওয়ার পেছনে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ নিয়ে অসন্তোষ কাজ করেছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের অনুরোধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই সপ্তাহ বাড়ান, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যোগাযোগে কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ইরানের অবস্থান এখনো কঠোর। ইসলামাবাদে পৌঁছে আরাগচি স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে অংশ নেবেন না। ফলে যে কোনো বার্তা আদান-প্রদান মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেই হবে, যা দ্রুত সমাধান পাওয়ার সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলতে পারে।
এদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়ো করছেন না। তবে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ তার ওপর প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন সংঘাত থেকে ‘সম্মানজনক’ভাবে সরে আসার পথ খুঁজছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মিসর ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যেও আলোচনা হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই নতুন দফার আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানো এবং স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পক্ষগুলোর অবস্থান ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনা এগোলেও দ্রুত কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। তবে চলমান সংলাপই আপাতত উত্তেজনা কমানোর প্রধান পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট