وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنفُسِكُمْ ۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ ۚ وَمَا تُنفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنتُمْ لَا تُظْلَمُونَ
"আর তোমরা যে উত্তম বস্তু ব্যয় করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই। তোমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই ব্যয় করে থাকো। আর উত্তম যা তোমরা ব্যয় করো, তার পুরোপুরি তোমাদেরকে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি কোনো যুলুম করা হবে না।"
(সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭২)
এই আয়াতের বার্তা গভীর ও সর্বজনীন। আল্লাহর পথে দান আসলে আত্মার জন্য বিনিয়োগ—এটি কোনো ক্ষতি নয়, বরং চিরস্থায়ী মুনাফা। প্রতিটি দান আল্লাহর কাছে অক্ষয় পুরস্কার হয়ে ফিরে আসে। কোরআন শেখায়, দান কেবল সামাজিক কল্যাণ নয়; এটি এক ধরনের আখেরাতের সঞ্চয় ও আত্মিক উন্নতির পথ।
ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন:
দান করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইখলাস (একনিষ্ঠতা)। তিনি বলেন, 'তোমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্যই ব্যয় করে থাকো'—এই অংশটি প্রমাণ করে যে, লোক দেখানো বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে দান করলে তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হয় না। আর 'যা তোমাদেরকে পুরোপুরি প্রদান করা হবে' এই ওয়াদা দ্বারা তিনি জোর দেন যে, দুনিয়াতে সামান্য দান করলেও আখেরাতে আল্লাহ তার পূর্ণ প্রতিদান দেন এবং অণু পরিমাণও কমিয়ে দেন না। দানকারী মূলত নিজেরই আত্মার উন্নতিতে বিনিয়োগ করে।
দানকারীর প্রকৃত লাভ হয় আত্মিক জগতে—এটি লোভ, অহংকার ও কৃপণতা থেকে মুক্তির পথ। বরং দান সম্পদে বরকত আনে, সমাজে ভারসাম্য স্থাপন করে এবং মুমিনের অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে।
দান কখনো সম্পদ কমায় না, বরং তা বরকত বৃদ্ধি করে। তাই মুমিনদের উচিত দান করার সময় নিয়তকে শুধরে নেওয়া, গোপনে দান করা, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকেই একমাত্র লক্ষ্য করা।
ডেস্ক রিপোর্ট