ঢাকা , মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ , ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে চুয়েটে ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার, ক্যাম্পাসে না আসার শর্তে রেলখাতের উন্নয়নে ৮০টি নতুন ইঞ্জিন আমদানির উদ্যোগ: রেলমন্ত্রী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৫৩ জন আটক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

হুতিদের মোকাবিলায় সৌদিতে সেনা পাঠাতে পারে মিসর, নেপথ্যে কী

সৌদি আরবের নিরাপত্তা, উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতা মিসরের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ১০:২৮:৩২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ১০:২৮:৩২ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ২৯ বার পঠিত
হুতিদের মোকাবিলায় সৌদিতে সেনা পাঠাতে পারে মিসর, নেপথ্যে কী ছবি—সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মিসর। সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিসরের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের অনুমতি চেয়ে পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে মিসরের সরাসরি জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।


গত শনিবার দেওয়া এক ভাষণে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি পার্লামেন্টের কাছে এ বিষয়ে অনুমোদন চান। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সহায়তার কথা মিসর কখনো ভুলবে না। সৌদি নেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তাঁদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত মিসর।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের হামলার মুখে পড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর মতো মিসরও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশীদার। তবে এত দিন সংঘাত নিয়ে সংযত অবস্থান বজায় রেখেছিল কায়রো। উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতি সমর্থন জানালেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দেয়নি দেশটি। সিসির সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই অবস্থানের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।


গত মে মাসে সিসির সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের সময় দেশটিতে মিসরের রাফাল যুদ্ধবিমান মোতায়েনের তথ্য প্রকাশিত হয়। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে খবর প্রকাশিত হলেও মিসরের সংবাদমাধ্যমগুলো সফরের প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করেনি।

এরপর আগস্টে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। মিসর ওই চুক্তিতে যোগ না দিলেও তখন এতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা জানিয়েছিল। সৌদি আরবের তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের হামলা বাড়তে থাকায় মিসরের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যায়।


গত মাসে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মিসর সফরেও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ওই সফরে বাব আল মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগরে নিরাপদ এবং অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। লোহিত সাগর উপকূলে দুই দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই নৌপথের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিয়েগের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার এবং ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানোর কারণে হুতিদের মোকাবিলা করা কঠিন। তাঁর ভাষ্য, শুধু বোমা হামলা চালিয়ে এই সংকটের সমাধান করা সম্ভব নয়।

সৌদি আরবের পাশে দাঁড়ানোর পেছনে মিসরের অর্থনৈতিক স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত মিসরীয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মিসরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বহু পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


২০১৩ সালে মিসরের সেনাবাহিনী তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো কায়রোকে ব্যাপক আর্থিক সহায়তা দেয়। অনুদান, বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানতের মাধ্যমে এসব দেশ মিসরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রেসিডেন্ট সিসি তাঁর সাম্প্রতিক ভাষণে সেই সহায়তার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো যেভাবে মিসরের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তা দেশটি ভুলবে না।


মিসরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অক্টোবর মাসে ব্যাংকটিতে সৌদি আরবের রাখা ৫৩০ কোটি ডলারের আমানতের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে। এর পাশাপাশি কায়রোকে ২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার সুদও পরিশোধ করতে হবে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা মিলিয়ে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি মিসরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৭

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।