যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নির্বাচন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসে যাওয়ার পথে এবং সেখানে রিপাবলিকান পার্টির একটি নির্বাচনি সমাবেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্বল্পমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপও সামলাতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, তাঁর ধারণা, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। ইরান দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি ধরে রাখতে পারবে না বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তেহরান চেষ্টা করছে এবং ওয়াশিংটনে এমন একটি সরকার আনতে চাইছে, যারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে—এমন অভিযোগও করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি।
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের হুথিদের হামলার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। বুধবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে যুদ্ধের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর এর প্রভাব নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।