সাভার ও আশুলিয়া ভূমি অফিসে প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক অভিযান: অনুপস্থিতি ও অনিয়মের প্রমাণ
- আপলোড সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ০৯:১৩:৪০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ০৯:১৩:৪০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১২৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
সরকারি সেবা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সোমবার (৮ জুন) সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তিনি অফিস দুটিতে উপস্থিত হন। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘসূত্রতা এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের চিত্র সরাসরি দেখতে পান প্রতিমন্ত্রী। নাগরিক সেবা নিয়ে এমন উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনা দেখে তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোর বার্তা দেন।
পরিদর্শনের শুরুতে আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত অফিস সময় শুরু হলেও স্বয়ং সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির খাতা ও ডিজিটাল হাজিরা পরীক্ষা করে দেখা যায়, কার্যালয়ের মোট আটজন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র দুজন নির্ধারিত সময়ে অফিসে এসেছেন। প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হওয়া সাধারণ নাগরিকরা তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, নামজারিসহ বিভিন্ন সাধারণ কাজের জন্য দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও নির্ধারিত সময়ে সেবা মিলছে না। নাগরিকদের এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির প্রমাণ পান। একই সাথে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে তথ্যকেন্দ্র ও হেল্প ডেস্ককে আরও কার্যকর করার তাগিদ দেন তিনি।
নথি সংরক্ষণ ও রেকর্ড কিপিং শাখা পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে জানান, সার্ভার জটিলতার কারণে মাঝেমধ্যেই ই-নামজারি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে সেবার গতিতে। প্রতিমন্ত্রী এই কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সার্ভারের অজুহাতে জনগণকে কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তীতে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকার রাজস্ব সার্কেল কার্যালয় পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী অফিসের আশপাশে লাইসেন্সবিহীন দালাল চক্রের অবৈধ নামজারি কার্যক্রম এবং কিছু অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেন। এসব অননুমোদিত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।