যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরাইলি হামলা, নারী সাংবাদিকসহ নিহত ৫
- আপলোড সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১০:০১:০৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৪-২০২৬ ১০:০১:০৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি চলাকালীন লেবাননে ইসরাইলি হামলায় এক নারী সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে চালানো এই হামলার পর পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একইদিনে পাল্টা হিসেবে ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই হামলাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় প্রথমে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরও দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হন। এর মধ্যে আমাল খলিল নামে আল-আখবার পত্রিকার এক নারী সাংবাদিক নিহত হন এবং আরেক সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আত-তাইরি শহরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এই হামলার শিকার হন আমাল। মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত চতুর্থ গণমাধ্যমকর্মী তিনি। আহত সাংবাদিককে লেবানন রেড ক্রসের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস এ হামলার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, ইসরাইলি হামলার জবাবে দক্ষিণাঞ্চলের কানতারা এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও রকেট হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। তবে এসব পাল্টা হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় মার্কিন দূতাবাস বৈরুত নিজ দেশের নাগরিকদের দ্রুত লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পাশাপাশি, সাম্প্রতিক হামলায় আহত দুই ফরাসি শান্তিরক্ষী পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। এ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছে প্যারিস।
উল্লেখ্য, চলমান এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় ফেব্রুয়ারির শেষদিকে, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক অভিযান শুরু হয় এবং পরবর্তীতে জাতিসংঘ-এর পক্ষ থেকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মনে করেন, এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই; টেকসই শান্তির জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র পথ।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে, ফলে সীমান্ত অঞ্চলে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।