ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইলে ফ্রান্স ও তার অংশীদাররা প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং জার্মানি ও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এ বিষয়ের আলোচনা করবে। বুধবার তিনি এই মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করে দেন।
এদিকে, গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিকল্প’ বিষয়গুলো যাচাই করছেন, যদিও এ নিয়ে ইউরোপীয় অংশীদারদের আপত্তি রয়েছে। ডিসকাশনে এমন সম্ভাবনাসমূহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনী গ্রিনল্যান্ডে প্রয়োজনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড হচ্ছে উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দ্বীপ, যার ভৌগলিক অবস্থান আগামীর সামরিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার জন্য গুরুত্ব বহন করে। এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির যে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ এবং মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্ব নীতি নিয়ে বিতর্কের মাত্রা আরও বাড়ে যখন ট্রাম্প প্রশাসন হাই প্রোফাইল সামরিক উদ্যোগ গ্রহণ করে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে বিশাল সামরিক অভিযান পরিচালনা করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার কথা গত সপ্তাহে বিভিন্ন সূত্রে সামনে আসে। একই সাথে, যুক্তরাষ্ট্র কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিপুল পরিমাণ তেল নিজের হাতে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যাতে ওই তেলের মূল্য থেকে সংগৃহীত অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট জনগণের স্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও কূটনৈতিক অঙ্গনে জিজ্ঞাসা উঠেছে, এমন কর্মকাণ্ডের আইনি ভিত্তি কতটা শক্ত এবং তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “এই ধরনের একতরফা পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সংগঠিত ব্যবস্থা ও অংশীদার রাষ্ট্রদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর যথাযথ প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করা হবে।”
ডেস্ক রিপোর্ট