ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রতি বছরই শীতকালে চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রার বড় পতন লক্ষ্য করা যায়। গত কয়েকদিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাওয়ায় শীতের প্রকোপ এখন চরমে। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকায় সকালেও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে, যার ফলে সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বেলা বাড়লেও কুয়াশা না কাটায় সূর্যের উত্তাপ পৌঁছাচ্ছে না জনপদে, যা স্থবিরতাকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
এই বৈরী আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। তীব্র শীতের কারণে ভোরে কাজের সন্ধানে বের হওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে তাদের দৈনন্দিন উপার্জনে। অনেক এলাকায় নিম্নবিত্ত মানুষকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এছাড়া মাঠে কাজ করতে না পারায় কৃষি শ্রমিকরাও সংকটে পড়েছেন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উত্তর দিক থেকে আসা শীতল বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত থাকায় শীতের এই তীব্রতা আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে। রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা থাকায় শিশু ও বৃদ্ধদের মাঝে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাড়কাঁপানো শীত ও বাতাসের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না, ফলে রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি অন্য সময়ের তুলনায় অনেক কম।
ডেস্ক রিপোর্ট