চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বর্তমানে তার জীবনের সবচেয়ে সংকটময় সময় অতিক্রম করছেন বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্য এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত জটিল এবং এই সংকট কতটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডা. জাহিদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং এরই মধ্যে একাধিকবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।
ডা. জাহিদ হোসেন জানান, সংকটময় এই সময়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকে এখনো সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয় ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
তিনি আরও জানান, দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক চিকিৎসক ভার্চুয়ালি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে তার চিকিৎসা তদারকি করছে।
সোমবার সকালে মেডিকেল বোর্ডের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে ডা. জাহিদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সময় পার করছেন। এ অবস্থায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার রাতে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দিনভর পরিবারের একাধিক সদস্য হাসপাতালে যাতায়াত করেন। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান নিয়মিতভাবে মাকে দেখতে হাসপাতালে যাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছেন এবং তার শারীরিক অবস্থার ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার কথা বলা হলেও, চিকিৎসকদের মতে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা আকাশপথে ভ্রমণের উপযোগী নয়। সে কারণে দেশেই তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট