সোমালিল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বীকৃতিকে ‘রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সোমালিয়া। মোগাদিশু বলেছে, এই সিদ্ধান্ত দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং এমন পদক্ষেপ কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসরাইলের ঘোষণার একদিন পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় এ অবস্থান জানায় সোমালিয়া সরকার।
সোমালিয়ার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আলী ওমর আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসরাইলের এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি জানান, সরকার কূটনৈতিক সব বৈধ উপায় ব্যবহার করে এই ‘রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন’ মোকাবিলা করবে এবং দেশের সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে ইসরাইলকে বিভাজনমূলক এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও এখনো পর্যন্ত জাতিসংঘের কোনো সদস্য রাষ্ট্র ভূখণ্ডটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছে অঞ্চলটির প্রশাসন। গত বছর আবদি রহমান মোহামেদ আবদুল্লাহি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ লক্ষ্যকে কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ইসরাইল বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে একটি ‘সার্বভৌম রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই দিনে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’র জানান, দুই দেশের মধ্যে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি সই হয়েছে। এর আওতায় পরস্পরের দেশে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ এবং দূতাবাস স্থাপনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরাইলের এ সিদ্ধান্ত আফ্রিকা ও আরব বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU) ও একাধিক আরব দেশ এই স্বীকৃতির নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি কিছু দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে—এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার বৃহত্তর ইসরাইলি কৌশলের অংশ কি না, সে প্রশ্নেও।
আফ্রিকান ইউনিয়ন কমিশনের চেয়ারম্যান মাহমুদ আলি ইউসুফ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেন, সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ AU দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। তার ভাষায়, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়া ফেডারেল প্রজাতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোমালিয়ার ঐক্য, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা আফ্রিকান ইউনিয়নের মৌলিক নীতির পরিপন্থি এবং এটি পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে।
ডেস্ক রিপোর্ট