রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ঘন কুয়াশার কারণে পদ্মা নদীর চরে আটকে পড়া একটি লঞ্চের প্রায় শতাধিক যাত্রীকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ ফোন করার মাধ্যমে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দৌলতদিয়া ঘাট নৌ-পুলিশের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশে ‘এমএল মিজানুর’ নামের একটি লঞ্চ যাত্রা শুরু করে। লঞ্চটিতে নারী-শিশুসহ শতাধিক যাত্রী ছিলেন। যাত্রাপথে ঘন কুয়াশার কারণে দিকনির্ণয়ে বিভ্রান্ত হয়ে লঞ্চটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের বিপরীত পাশে কলবাগান এলাকায় পদ্মা নদীর চরে আটকে যায়।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে যাত্রীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চান। খবর পাওয়ার পর দৌলতদিয়া নৌ পুলিশের একটি দল দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে। নৌ পুলিশের এসআই মেহেদী হাসান অপূর্ব ও এএসআই অশোক দত্তের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও একটি ট্রলার নিয়ে অভিযানে অংশ নেন।
ঘন কুয়াশা ও কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও কৃত্রিম আলোর সহায়তায় রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী দল লঞ্চটির অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। এরপর ধাপে ধাপে যাত্রীদের ট্রলারে তুলে নিরাপদে দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী আহত হননি এবং লঞ্চেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কুয়াশার কারণে নৌপথে দৃশ্যমানতা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়ায় বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ত্রিনাথ সাহা জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেরিঘাট এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং নৌ পুলিশের টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট