দাওয়াহ ইসলামের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব—যার মাধ্যমে মানবজাতিকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা হয়। সৃষ্টির শুরু থেকেই মহান আল্লাহ মানুষকে হিদায়াত দিতে নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা তাওহিদের বার্তা প্রচার করেছেন। তাদের এই আহ্বানই ইসলামী পরিভাষায় ‘দাওয়াহ’ নামে পরিচিত। আজও প্রতিটি মুসলমানের ওপর এই দাওয়াহর দায়িত্ব বর্তায়, যেন ইসলামের বার্তা ও কল্যাণ সবার কাছে পৌঁছে যায়।
‘দাওয়াহ’ (الدعوة) শব্দটি আরবি “দা‘আ – ইয়াদ‘উ – দা‘ওয়াতান” ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ আহ্বান বা আমন্ত্রণ। ইংরেজিতে এর প্রতিশব্দ call, invitation, preaching ইত্যাদি। ইসলামী অর্থে দাওয়াহ মানে হলো মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, কুফর ও শিরক থেকে মুক্ত করে তাওহিদের পথে ফিরিয়ে আনা। ইসলামের অগ্রগতি ও টেকসই সমাজ গঠনে এই দাওয়াহ অপরিহার্য।
পবিত্র কুরআনে দাওয়াহর গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
“তুমি তোমার প্রভুর পথে আহ্বান কর হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে।” (সুরা নাহল, আয়াত: ১২৫)
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৪)
অন্যত্র বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, তার চেয়ে উত্তম কথা আর কার হতে পারে?” (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৩)
সুন্নাহতেও দাওয়াহর গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন,
“আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, তা এক আয়াতই হোক।” (সহিহ বুখারি)
অন্য হাদীসে এসেছে, “যে ব্যক্তি কাউকে হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য তত পুরস্কার থাকবে যতজন তার অনুসরণ করবে।” (সহিহ মুসলিম)
দাওয়াহ শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, এটি মানবতার দিকনির্দেশনাও। নবী-রাসূলগণ মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে এনেছেন, অন্যায় থেকে ন্যায়ের পথে আহ্বান করেছেন। আজকের বিশ্বে শান্তি, ন্যায় ও মানবতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক দাওয়াহই হতে পারে সর্বোত্তম পথ। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত নিজের জীবন ও সমাজকে দাওয়াহর আলোয় আলোকিত করা।
ডেস্ক রিপোর্ট