তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শিক্ষার্থীরা মশাল মিছিল করেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে শুরু হওয়া এ মিছিল ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে এসে শেষ হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে জ্বলন্ত মশাল আর মুখে তিস্তা ও উত্তরবঙ্গের মানুষের ন্যায্য পানির হিস্যার দাবিমূলক স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিটি সরকার উত্তরবঙ্গকে বৈষম্যের মধ্যে রেখেছে। তারা অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গোপনে তা স্থগিত করা হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আশা করা হয়েছিল যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে, কিন্তু তেমন কোনো পদক্ষেপ এখনও দেখা যায়নি।
শিক্ষার্থী নেতা গোলাম রব্বানী বলেন, প্রতি বছর বন্যায় উত্তরবঙ্গের মানুষ বিপর্যস্ত হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর একমাত্র পথ হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তিনি জানান, সম্প্রতি রংপুর বিভাগে হওয়া মশাল মিছিল ঐতিহাসিক এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, যার ধারাবাহিকতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও আন্দোলনে নেমেছে। তাদের দাবি, সরকারকে অবিলম্বে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করতে হবে।
অন্য বক্তারা বলেন, তিস্তা রক্ষা শুধু নদী রক্ষার আন্দোলন নয়; এটি উত্তরবঙ্গের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর ও তিস্তা পাড়ের মানুষ অবহেলার শিকার। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, নভেম্বরে মধ্যে যদি সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ইবি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। তাদের দাবি—উত্তরবঙ্গের কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ দেশের অর্থনীতিতে যে অবদান রাখছেন, তা যথাযথ সম্মান ও ন্যায্য হিস্যা পেতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, রংপুর ও উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবনমান এখনও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক নিচে। সেই বৈষম্য দূর না হলে এবং তিস্তা প্রকল্প কার্যকর না হলে সরকার জনগণের আস্থা হারাবে। শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার জনগণের দাবি শুনে দ্রুত এ মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট