সেন্টমার্টিনের গভীর সমুদ্র এলাকায় পরিচালিত অভিযানে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া নারী ও শিশুসহ ১৫৩ জনকে উদ্ধার করেছে কোস্ট গার্ড। একই সঙ্গে মানব পাচারের অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় সাগরপথে অবৈধভাবে পাঠানোর পরিকল্পনার সময় তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছিলেন।
অভিযানে অংশ নেয় অপারেশন ‘সমুদ্র পাহারা’-এ নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ কোস্ট গার্ড জাহাজ কামরুজ্জামান। আভিযানিক দল একটি সন্দেহভাজন বোটকে থামার সংকেত দিলে সেটি পালানোর চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া করে সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ-পূর্ব সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে বোটটি আটক করা হয়। তল্লাশিতে ১৫৩ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ১৫ জন সন্দেহভাজন মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার ব্যক্তিরা জানান, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র উন্নত জীবনযাপন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং স্বল্প খরচে বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। সাগরপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার মাধ্যমে তাদের পাচারের পরিকল্পনা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ আইনে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাগরপথে অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার ঠেকাতে উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
স্টাফ রিপোর্টার