ইরানের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ চারজন জেনারেল নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, একটি গোপন প্রতিরক্ষা কাউসিলের বৈঠক চলাকালীন মার্কিন-ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রাণ হারান। খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানের রাজপথে নেমে এসেছে লাখো শোকাতুর মানুষ, যাদের কণ্ঠে এখন কেবলই প্রতিশোধের হুঙ্কার।
ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার প্রথম এক মিনিটেই ৪০ জন ইরানি কমান্ডার এবং সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইয়্যেদ আবদোলরহিম মুসাভি, আইআরজিসি-এর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষা সচিব অ্যাডমিরাল আলি শামখানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাসেরিও এই হামলায় নিহত হয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফিকে অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান ও বিচার বিভাগীয় প্রধানও থাকছেন।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় কেবল ইরান নয়, প্রতিবেশী পাকিস্তানেও ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। স্পুটনিকের তথ্যমতে, পাকিস্তানের স্কার্দুতে উত্তেজিত জনতা জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এদিকে ইসরায়েল পুনরায় বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও গুদামগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া। তবে ইরানি কমান্ডারেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান এখনো তার 'আসল শক্তিশালী অস্ত্র' ব্যবহার করেনি, যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চরম অনুশোচনায় ভুগবে।
ডেস্ক রিপোর্ট