মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ভ্রমণ নিয়ে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক নিরাপত্তা বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনার পরামর্শ দেয়। এতে বলা হয়, আঞ্চলিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় যেকোনো ধরনের ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পরিবারের ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই দিনে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য আলাদা নির্দেশনা জারি করে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ইসরায়েল সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরান সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সম্ভাব্য হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও নৌবহরে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা গোটা অঞ্চলকে অস্থির করে তুলতে পারে। তার ভাষায়, সম্ভাব্য হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ইসরায়েলি ভূখণ্ড ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
এই ধরনের হুঁশিয়ারির পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ভ্রমণ সতর্কতা জারি করা হয়। একই সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইতালি, স্পেন, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট