ভোলার লালমোহন উপজেলায় খেলাচ্ছলে গাছের সঙ্গে রশি বেঁধে দুষ্টুমি করতে গিয়ে গলায় ফাঁস লেগে তামিম ইকবাল নামে ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখছে এবং হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের কালামুল্লাহ গ্রামের পূর্ব চতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে একটি সুপারি বাগান থেকে শিশুটির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় এক অটোরিকশা চালক প্রথমে মরদেহটি দেখতে পেয়ে বিষয়টি এলাকাবাসী ও পুলিশকে জানান। পরে মঙ্গল শিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মঙ্গল শিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদ আলী জানান, নিহত তামিম ইকবাল ওই গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও সুরমা দম্পতির সন্তান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে তামিম তার দাদা শফিক মিয়ার সঙ্গে স্থানীয় একটি রাইস মিলে যায়। সে সময় শিশুটির হাতে একটি রশি ছিল।
পুলিশ জানায়, দাদা শফিক মিয়া যখন রাইস মিলের মালিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তামিম সবার অজান্তে ওই রশি নিয়ে মিলের পেছনে থাকা সুপারি বাগানে চলে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে গাছের সঙ্গে রশি বেঁধে খেলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত রশিটি তার গলায় আটকে ফাঁস লেগে যায়, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে।
এসআই এরশাদ আলী আরও বলেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং সুরতহাল প্রতিবেদনেও হত্যার কোনো প্রমাণ মেলেনি। পরিবারের দেওয়া বর্ণনার সঙ্গে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির মিল রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লালমোহন থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডেস্ক রিপোর্ট