আটলান্টিক মহাসাগরে গভীর সমুদ্রে একটি রাশিয়ান পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ‘মেরিনেরা’ নামের ট্যাংকারটি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিযান জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন সংক্রান্ত কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বুধবার এক বিবৃতিতে রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, ট্যাংকারটি কোনো দেশের জলসীমার ভেতরে নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছিল। সে অবস্থায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ট্যাংকারটি আটক করে এবং বর্তমানে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর ট্যাংকারটিতে রাশিয়ান পতাকা উত্তোলনের জন্য অস্থায়ী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যা রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজগুলো ট্যাংকারটির আশপাশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আটক ট্যাংকারটির ক্রুদের মধ্যে রাশিয়ান নাগরিক থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে আটক নাবিকদের মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে গত ডিসেম্বরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড তল্লাশি চালাতে গেলে ‘বেলা ১’ নামে পরিচিত ওই ট্যাংকারটি পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মাঝ সমুদ্রে নাম পরিবর্তন করে ‘মেরিনেরা’ রাখা হয় এবং জাহাজটির নিবন্ধন রাশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, বুধবার আইসল্যান্ডের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড ও সামরিক বাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিচার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র সুরক্ষা বিভাগ ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সমন্বয়ে ট্যাংকারটি আটক করা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, অভিযানের সময় আশপাশে রাশিয়ান যুদ্ধজাহাজ ও একটি সাবমেরিন উপস্থিত ছিল। তবে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
ডেস্ক রিপোর্ট