ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোটরসাইকেলে করে একদল সশস্ত্র হামলাকারী কাসুওয়ান দাজি বাজারে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলাকারীরা কোনো উসকানি ছাড়াই সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে। এই সহিংসতা কেবল একটি গ্রামেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং গত শুক্রবার থেকে পার্শ্ববর্তী আগওয়ারা ও বোরগু এলাকায় শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে একে দেখা হচ্ছে। হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা আহত দাউদা শাকুল্লে জানান, বন্দুকধারীদের হাত থেকে নারী ও শিশুরাও রক্ষা পায়নি। ঘটনার সময় এবং পরবর্তী বেশ কিছুক্ষণ এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো তৎপরতা না থাকায় নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি এবং প্রত্যক্ষদর্শী খালিদ পিসার মতে, কাসুওয়ান দাজি ছাড়াও চুকামা ও শাঙ্গা গ্রামেও এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি তান্ডব চালিয়েছে। তাদের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এদিকে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী এই নৃশংস হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো এলাকা বর্তমানে তাদের নজরদারিতে রয়েছে এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারসহ অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে অপহরণের ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিল। যদিও মাসখানেক বন্দি থাকার পর তারা মুক্তি পান, তবে গ্রামাঞ্চলগুলোতে এ ধরনের গোষ্ঠীগত সহিংসতা ও গণহত্যা দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ক্রমাগত হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে বাজার ও স্কুলগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলা স্থানীয় জনজীবনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট