অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙর থেকে পণ্য খালাস ও সারাদেশে পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসি)। নিয়ম অনুযায়ী তিনটি সংগঠনের সমন্বয়ে এটি চলার কথা থাকলেও অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামীপন্থী নেতা হাজী শফিক আহমেদ নিজেকে স্বঘোষিত কনভেনর ঘোষণা করে নিয়ন্ত্রণ কুক্ষিগত করেছেন। সাধারণ মালিকদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২১১ কোটি টাকা ডেমারেজ পাওনা নিয়ে সমঝোতা চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে এই পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকায়। এই বিশাল অর্থ আত্মসাৎ করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা নিজস্ব জাহাজ তৈরি করে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে, যার ফলে প্রকৃত জাহাজ মালিক ও শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছেন।
ভুক্তভোগী জাহাজ মালিকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সাবেক এমপিদের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা বেলায়েত হোসেন, আব্দুল আজিজ ও পারভেজ আহমেদরা এখনো পর্দার আড়াল থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করছেন। যেখানে একটি জাহাজ ৮ থেকে ১১ দিনে খালি হওয়ার কথা, সেখানে সিন্ডিকেটের যোগসাজশে পণ্য খালাস না করে জাহাজগুলোকে ১১ মাস পর্যন্ত ভাসমান গোডাউন হিসেবে রাখা হয়। এতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বিসিভোয়া ও কোয়াব-এর নেতৃবৃন্দ জানান, নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের (ডিজি শিপিং) কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় এই সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয়। যদিও ডিজি শিপিংয়ের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি ‘জাহাজী অ্যাপ’ চালুর মাধ্যমে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করলেও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলের বাধায় তা সম্ভব হচ্ছে না।
সংকট নিরসনে এবং নৌপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে লাইটার কার্গো জাহাজ মালিকরা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছেন। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২০২৪ বাস্তবায়ন, সিন্ডিকেট বাতিল করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিডব্লিউটিসিসি পরিচালনা পরিষদ গঠন এবং বকেয়া ৫০০ কোটি টাকা দ্রুত পরিশোধ। দাবি আদায় না হলে দেশের লাইটার কার্গো বহরের প্রায় ২,৫০০ জাহাজ একযোগে বন্ধ করে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নৌপথের এই অরাজকতা বন্ধ না হলে দেশের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ার এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। (সূত্র: আমার দেশ)
ডেস্ক রিপোর্ট