হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে পুলিশের একটি অভিযানে আটক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক জেলা নেতা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসন ও জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে তর্কে জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় বানিয়াচং থানায় অগ্নিসংযোগ ও পুলিশ সদস্য এসআই সন্তোষ চৌধুরীকে পুড়িয়ে হত্যার সঙ্গে তারাই জড়িত ছিলেন এবং বর্তমান প্রশাসন তাদের আন্দোলনের ফলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর এলাকা থেকে এনামুল হাসান নয়ন নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। নয়ন আগে শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। দুপুরের দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা থানায় গিয়ে তার মুক্তির দাবি জানান। পরে সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সীর মধ্যস্থতায় এনামুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, এনামুল অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় সংগঠনটি ছেড়ে দিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ওসির সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হয় বলে জানান তিনি।
শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, এনামুল হাসান নয়নের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ছবি ও ভিডিও উপস্থাপন করা হলে যাচাই–বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে উত্থাপিত দাবি ও বক্তব্যের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট